ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে রেজুলেশন-দরপত্র ছাড়াই মাদরাসার

সম্পদ বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি সেই সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে জবাবদিহি করবে কে? গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসার একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর ভেঙে ইট ও টিন বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এমন প্রশ্নই উঠেছে। অভিযোগের তির প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আব্দুল লতিফের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ, রেজুলেশন কিংবা দরপত্র ছাড়াই ঘরটির মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসার প্রায় ২০ হাত দৈর্ঘ্যের পুরোনো আধাপাকা টিনশেড ঘরটি ভেঙে এর ইট ও টিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘরটির অবকাঠামো ও টিনের মূল্য লক্ষাধিক টাকা হতে পারে বলে দাবি তাঁদের। তবে কী পরিমাণ মালামাল বিক্রি হয়েছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও অনুমোদনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না। যদি নিয়ম মেনে বিক্রি করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার নথিপত্র এবং বিক্রির অর্থের হিসাব প্রকাশে বাধা কোথায়?

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে মাদরাসার অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনুর বাড়ির উঠোনে ইট দেখতে পান দৈনিক দেশের কাগজ এর প্রতিবেদক। এ বিষয়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে অফিস সহকারী জানান, মাদরাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলেই তিনি ইটগুলো বাড়িতে নিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় মাদরাসার মালামাল কোথায় রাখা হয়েছিল, কার নির্দেশে সেগুলো সরানো হয়েছে এবং ইটগুলো বিক্রির জন্য নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ইটের পরিমাণ, মালিকানা ও স্থানান্তরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার সুপার মো. আব্দুল লতিফ বলেন, অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনু কিংবা নৈশপ্রহরী সোহাগ মণ্ডল কেউই মাদরাসার টিন বা ইট নিয়ে যাননি। তাঁর দাবি, ঘর ভাঙার পর ইটগুলো প্রতিষ্ঠানের জায়গায় রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে ইট নিয়ে গেছেন।

তবে সুপারের এ বক্তব্যের বিপরীতে অফিস সহকারীর দেওয়া বক্তব্য এবং তাঁর বাড়ির উঠোনে ইট পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে ঘর ভাঙার পর মালামাল কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে, তা নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মাদরাসার সভাপতি ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলা টিভি। ইউএনও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভবন বা অবকাঠামো ভাঙার পর উদ্ধার হওয়া ইট, টিনসহ অন্যান্য মালামাল প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। এসব সম্পদ বিক্রি বা অন্যত্র সরানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব থাকা জরুরি। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়।

কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসার ক্ষেত্রে ঘর ভাঙার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, বিক্রির অনুমোদন ছিল কি না, মালামাল কত টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় জমা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে মালামালের পরিমাণ, বিক্রির অর্থ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এখন মূল প্রশ্ন—মাদরাসার ঘর ভাঙার পর ইট-টিনের কী পরিণতি হলো, আর বিক্রি হয়ে থাকলে সেই অর্থ গেল কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই মিলতে পারে এসব প্রশ্নের উত্তর।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পরই রূপগঞ্জে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে রেজুলেশন-দরপত্র ছাড়াই মাদরাসার

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সম্পদ বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি সেই সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে জবাবদিহি করবে কে? গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসার একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর ভেঙে ইট ও টিন বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এমন প্রশ্নই উঠেছে। অভিযোগের তির প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আব্দুল লতিফের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ, রেজুলেশন কিংবা দরপত্র ছাড়াই ঘরটির মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসার প্রায় ২০ হাত দৈর্ঘ্যের পুরোনো আধাপাকা টিনশেড ঘরটি ভেঙে এর ইট ও টিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘরটির অবকাঠামো ও টিনের মূল্য লক্ষাধিক টাকা হতে পারে বলে দাবি তাঁদের। তবে কী পরিমাণ মালামাল বিক্রি হয়েছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও অনুমোদনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না। যদি নিয়ম মেনে বিক্রি করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার নথিপত্র এবং বিক্রির অর্থের হিসাব প্রকাশে বাধা কোথায়?

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে মাদরাসার অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনুর বাড়ির উঠোনে ইট দেখতে পান দৈনিক দেশের কাগজ এর প্রতিবেদক। এ বিষয়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে অফিস সহকারী জানান, মাদরাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলেই তিনি ইটগুলো বাড়িতে নিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় মাদরাসার মালামাল কোথায় রাখা হয়েছিল, কার নির্দেশে সেগুলো সরানো হয়েছে এবং ইটগুলো বিক্রির জন্য নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ইটের পরিমাণ, মালিকানা ও স্থানান্তরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার সুপার মো. আব্দুল লতিফ বলেন, অফিস সহকারী শামসুজ্জোহা কিনু কিংবা নৈশপ্রহরী সোহাগ মণ্ডল কেউই মাদরাসার টিন বা ইট নিয়ে যাননি। তাঁর দাবি, ঘর ভাঙার পর ইটগুলো প্রতিষ্ঠানের জায়গায় রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজন সেখান থেকে ইট নিয়ে গেছেন।

তবে সুপারের এ বক্তব্যের বিপরীতে অফিস সহকারীর দেওয়া বক্তব্য এবং তাঁর বাড়ির উঠোনে ইট পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে ঘর ভাঙার পর মালামাল কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে, তা নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মাদরাসার সভাপতি ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলা টিভি। ইউএনও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভবন বা অবকাঠামো ভাঙার পর উদ্ধার হওয়া ইট, টিনসহ অন্যান্য মালামাল প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। এসব সম্পদ বিক্রি বা অন্যত্র সরানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব থাকা জরুরি। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়।

কঞ্চিপাড়া খবিরিয়া দাখিল মাদরাসার ক্ষেত্রে ঘর ভাঙার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, বিক্রির অনুমোদন ছিল কি না, মালামাল কত টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় জমা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে মালামালের পরিমাণ, বিক্রির অর্থ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এখন মূল প্রশ্ন—মাদরাসার ঘর ভাঙার পর ইট-টিনের কী পরিণতি হলো, আর বিক্রি হয়ে থাকলে সেই অর্থ গেল কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই মিলতে পারে এসব প্রশ্নের উত্তর।