ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন লাঠিয়ালরা

 

ঢোলের বাজনা আর কাঁসার ঘণ্টার তালে তালে চলছে লাঠির কসরত। কখনো প্রতিপক্ষের আঘাত, কখনো কৌশলে সেই আঘাত প্রতিহত করে পাল্টা আক্রমণ। লাঠিয়ালদের এমন শ্বাসরুদ্ধকর খেলা দেখতে ভিড় করেছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও, আজও সেই ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে আছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিয়ালরা।

প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর তিন দিন পর শনিবার ২৪ অক্টোবর বসে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার মেলা। প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ আয়োজন ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামবাসী। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী।

শুধু লাঠিখেলা নয়, এ মেলাকে ঘিরে রয়েছে গ্রামীণ সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন আর আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলা। জামাই-মেয়ে ও স্বজনদের দাওয়াত, বাড়িতে বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজন সব মিলিয়ে যেন এক অন্যরকম উৎসব। মেলায় বসেছে নানা রকম মিষ্টি, চিনির শাহী জিলাপি, বাঁশ-কাঠ, লোহা ও মাটির তৈরি সামগ্রীর দোকান। রয়েছে শিশুদের খেলনা ও প্রসাধনীর দোকানও। তবে মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সেই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা।

সহিদুল, প্রবীণ লাঠিয়াল স্বাধীন হোসেন, তরুণ লাঠিয়াল বলেন বংশপরম্পরায় চলে আসছে এই লাঠিখেলার চর্চা। বাবা-দাদার কাছ থেকে খেলা শিখে এখনো বিনা পারিশ্রমিকে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে যাচ্ছেন লাঠিয়ালরা। তবে সময়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে গেলে একদিন হারিয়ে যেতে পারে শত বছরের এই ঐতিহ্য—এমন আশঙ্কাও রয়েছে তাঁদের।

আয়োজকদের দাবি, এই মেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি গ্রামবাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং নতুন প্রজন্মকে লাঠিখেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের৷ বলেন
সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য। তবে পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিয়ালরা প্রমাণ করছেন ইচ্ছা আর ভালোবাসা থাকলে বাঁচিয়ে রাখা যায় পূর্বপুরুষের সংস্কৃতি। তাঁদের প্রত্যাশা, আগামী প্রজন্মও এগিয়ে আসবে এই ঐতিহ্য রক্ষায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেড়িখালীতে আল আমিন হাওলাদারের গণসংযোগ, নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন লাঠিয়ালরা

আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

ঢোলের বাজনা আর কাঁসার ঘণ্টার তালে তালে চলছে লাঠির কসরত। কখনো প্রতিপক্ষের আঘাত, কখনো কৌশলে সেই আঘাত প্রতিহত করে পাল্টা আক্রমণ। লাঠিয়ালদের এমন শ্বাসরুদ্ধকর খেলা দেখতে ভিড় করেছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও, আজও সেই ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে আছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিয়ালরা।

প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর তিন দিন পর শনিবার ২৪ অক্টোবর বসে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার মেলা। প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ আয়োজন ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামবাসী। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী।

শুধু লাঠিখেলা নয়, এ মেলাকে ঘিরে রয়েছে গ্রামীণ সংস্কৃতি, পারিবারিক বন্ধন আর আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলা। জামাই-মেয়ে ও স্বজনদের দাওয়াত, বাড়িতে বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজন সব মিলিয়ে যেন এক অন্যরকম উৎসব। মেলায় বসেছে নানা রকম মিষ্টি, চিনির শাহী জিলাপি, বাঁশ-কাঠ, লোহা ও মাটির তৈরি সামগ্রীর দোকান। রয়েছে শিশুদের খেলনা ও প্রসাধনীর দোকানও। তবে মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সেই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা।

সহিদুল, প্রবীণ লাঠিয়াল স্বাধীন হোসেন, তরুণ লাঠিয়াল বলেন বংশপরম্পরায় চলে আসছে এই লাঠিখেলার চর্চা। বাবা-দাদার কাছ থেকে খেলা শিখে এখনো বিনা পারিশ্রমিকে দর্শকদের আনন্দ দিয়ে যাচ্ছেন লাঠিয়ালরা। তবে সময়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে গেলে একদিন হারিয়ে যেতে পারে শত বছরের এই ঐতিহ্য—এমন আশঙ্কাও রয়েছে তাঁদের।

আয়োজকদের দাবি, এই মেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি গ্রামবাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং নতুন প্রজন্মকে লাঠিখেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের৷ বলেন
সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য। তবে পশ্চিম দেওগ্রামের লাঠিয়ালরা প্রমাণ করছেন ইচ্ছা আর ভালোবাসা থাকলে বাঁচিয়ে রাখা যায় পূর্বপুরুষের সংস্কৃতি। তাঁদের প্রত্যাশা, আগামী প্রজন্মও এগিয়ে আসবে এই ঐতিহ্য রক্ষায়।