ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের আইকন মফিজুর রহমান: সততা, মেধা আর মানবিকতায় গড়া এক সফলতার গল্প

  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • 6

রাসেল চৌধুরী

‎সাফল্য কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং তা নিখাদ পরিশ্রম, সততা আর সঠিক দিকনির্দেশনার ফসল। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের মাঝে উদ্যোক্তা হিসেবে যিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তিনি মফিজুর রহমান। অল্প বয়সেই নিজের মেধা ও দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কেবল একজন সফল ব্যবসায়ীই নন, বরং একজন দক্ষ সংগঠক এবং আর্তমানবতার সেবায় এক ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন।

‎চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রিয়াজুদ্দিন বাজার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তাঁর কাজের পরিধি আজ বিস্তৃত।

‎বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী সাহাব মিয়া এবং গৃহিণী হাজেরা খাতুন-এর সন্তান মফিজুর রহমান। চার ভাই ও তিন বোনের একান্নবর্তী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক গোছানো জীবনযাপন করছেন।

‎ব্যবসায়িক পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি ছিল তাঁর গভীর টান। ২০১০ সালে কাপড়ের ব্যবসার মাধ্যমে এই অঙ্গনে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তবে সময়ের চাহিদা ও প্রযুক্তির বিপ্লবকে অনুধাবন করে ২০১৪-১৫ সালের দিকে তিনি নিজেকে পুরোপুরি জড়িয়ে নেন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানির ব্যবসায়। আজ আমদানিকারক হিসেবে তাঁর এই ঈর্ষণীয় সাফল্যের পেছনে যিনি ছায়ার মতো ছিলেন, তিনি তাঁরই আপন বড় ভাই। বড় ভাইয়ের হাত ধরেই তাঁর ব্যবসায়িক জীবনের হাতেখড়ি এবং আজকের এই অবস্থানে আসার মূল কারিগরও তিনি।


‎ব্যবসায়িক সুনামের পাশাপাশি মফিজুর রহমান তাঁর মেধা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে। তরুণ বয়সেই ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন:। এখানে তিনি দপ্তর সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, যা চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহত্তম মোবাইল মার্কেট। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনে তিনি তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ব্যবসায়িক আধুনিকায়নে তাঁর তরুণ মনস্তত্ত্ব ও আইটি জ্ঞান বিশেষ অবদান রাখছে।

‎মফিজুর রহমানের আসল সৌন্দর্য কেবল তাঁর ব্যবসায়িক বা সাংগঠনিক পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর মানবিক গুণাবলীতে। রিয়াজুদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে তাঁর পরিচিত মহলে তিনি “গরীবের বন্ধু” হিসেবে পরিচিত।

‎ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও তিনি নিয়মিত নিভৃতে অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। করোনার কঠিন সময় থেকে শুরু করে যেকোনো সামাজিক বা পারিবারিক সংকটে সাধারণ মানুষের পরম আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছেন এই তরুণ। নিজের উপার্জনের একটি বড় অংশ তিনি মানবকল্যাণে ব্যয় করেন, অথচ প্রচারণার আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই ভালোবাসেন।


‎আজকের দিনে যখন অনেক তরুণ দিকভ্রান্ত, তখন মফিজুর রহমান প্রমাণ করেছেন যে সঠিক লক্ষ্য, পরিবারের বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সততা থাকলে যেকোনো বয়সেই সফল হওয়া সম্ভব। নিজের মেধা দিয়ে শূন্য থেকে সাম্রাজ্য গড়া এবং সেই সাফল্যের সুফল সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই দর্শনই তাঁকে দেশের অন্যতম সেরা তরুণ আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

‎উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর এই পথচলা আগামী দিনের হাজারো তরুণের বুকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

তরুণদের আইকন মফিজুর রহমান: সততা, মেধা আর মানবিকতায় গড়া এক সফলতার গল্প

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

রাসেল চৌধুরী

‎সাফল্য কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং তা নিখাদ পরিশ্রম, সততা আর সঠিক দিকনির্দেশনার ফসল। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের মাঝে উদ্যোক্তা হিসেবে যিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তিনি মফিজুর রহমান। অল্প বয়সেই নিজের মেধা ও দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কেবল একজন সফল ব্যবসায়ীই নন, বরং একজন দক্ষ সংগঠক এবং আর্তমানবতার সেবায় এক ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন।

‎চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রিয়াজুদ্দিন বাজার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তাঁর কাজের পরিধি আজ বিস্তৃত।

‎বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী সাহাব মিয়া এবং গৃহিণী হাজেরা খাতুন-এর সন্তান মফিজুর রহমান। চার ভাই ও তিন বোনের একান্নবর্তী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক গোছানো জীবনযাপন করছেন।

‎ব্যবসায়িক পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি ছিল তাঁর গভীর টান। ২০১০ সালে কাপড়ের ব্যবসার মাধ্যমে এই অঙ্গনে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তবে সময়ের চাহিদা ও প্রযুক্তির বিপ্লবকে অনুধাবন করে ২০১৪-১৫ সালের দিকে তিনি নিজেকে পুরোপুরি জড়িয়ে নেন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানির ব্যবসায়। আজ আমদানিকারক হিসেবে তাঁর এই ঈর্ষণীয় সাফল্যের পেছনে যিনি ছায়ার মতো ছিলেন, তিনি তাঁরই আপন বড় ভাই। বড় ভাইয়ের হাত ধরেই তাঁর ব্যবসায়িক জীবনের হাতেখড়ি এবং আজকের এই অবস্থানে আসার মূল কারিগরও তিনি।


‎ব্যবসায়িক সুনামের পাশাপাশি মফিজুর রহমান তাঁর মেধা ও নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে। তরুণ বয়সেই ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন:। এখানে তিনি দপ্তর সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, যা চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহত্তম মোবাইল মার্কেট। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনে তিনি তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ব্যবসায়িক আধুনিকায়নে তাঁর তরুণ মনস্তত্ত্ব ও আইটি জ্ঞান বিশেষ অবদান রাখছে।

‎মফিজুর রহমানের আসল সৌন্দর্য কেবল তাঁর ব্যবসায়িক বা সাংগঠনিক পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর মানবিক গুণাবলীতে। রিয়াজুদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে তাঁর পরিচিত মহলে তিনি “গরীবের বন্ধু” হিসেবে পরিচিত।

‎ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেও তিনি নিয়মিত নিভৃতে অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। করোনার কঠিন সময় থেকে শুরু করে যেকোনো সামাজিক বা পারিবারিক সংকটে সাধারণ মানুষের পরম আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছেন এই তরুণ। নিজের উপার্জনের একটি বড় অংশ তিনি মানবকল্যাণে ব্যয় করেন, অথচ প্রচারণার আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই ভালোবাসেন।


‎আজকের দিনে যখন অনেক তরুণ দিকভ্রান্ত, তখন মফিজুর রহমান প্রমাণ করেছেন যে সঠিক লক্ষ্য, পরিবারের বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সততা থাকলে যেকোনো বয়সেই সফল হওয়া সম্ভব। নিজের মেধা দিয়ে শূন্য থেকে সাম্রাজ্য গড়া এবং সেই সাফল্যের সুফল সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই দর্শনই তাঁকে দেশের অন্যতম সেরা তরুণ আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

‎উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর এই পথচলা আগামী দিনের হাজারো তরুণের বুকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে।