কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সন্তানের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর আবুল কাসেম প্রকাশ লেডু মিস্ত্রি নামের এক বৃদ্ধ বাবার করুণ মৃত্যু হয়েছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পাহাড় ঘেঁষা হামজারছড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয়রা জানান, নিহত আবুল কাসেম (লেডু মিস্ত্রি) পেশায় একজন প্রবীণ কারিগর ছিলেন। ঘটনার দিন পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁর ছেলের সঙ্গে পারিবারিক বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলে চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি এনে নিজ বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছেলের নৃশংস ছুরিকাঘাতে লেডু মিস্ত্রির শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তিনি রক্তাপ্লুত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস:
ঘটনার পর পর পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাত্ব অবস্থায় আবুল কাসেমকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে বেশ কিছুদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া:
সন্তানের হাতে নিজ বাবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো হ্নীলা ইউনিয়ন জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রবীণরা একে চরম পারিবারিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ:
ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে।
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 


















