ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের স্টাফ পরিচয়ে প্রতারণা, সিংড়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু হুরায়েরা খালিদ গ্রেপ্তার

 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আবু হুরায়রা ওরফে খালিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নাটোরের সিংড়া পৌর এলাকার বালুয়াবাসুয়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার খালিদ হাসান রংপুর বেতারের বরখাস্তকৃত টেকনিশিয়ান এবং সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের নাম ও তাঁর কার্যালয়ের স্টাফ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পদ পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডিজিটাল মাধ্যম ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তিনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের অপরাধ রেকর্ড বা পিসিপিআর (PCPR) পর্যালোচনায় খালিদ হাসানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক পূর্বের মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের মধ্যে নাটোরের সিংড়া, ঢাকার পল্টন ও সাভার, জামালপুর সদর এবং বগুড়ার গাবতলী থানাসংশ্লিষ্ট মামলার উল্লেখ রয়েছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন থানায় এফআইআর নম্বর ৪৫-এর একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪০৬, ৫০০ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ রয়েছে। একই বছরের ১৬ জানুয়ারি সাভার থানায় এফআইআর নম্বর ৩৭-এর একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২০ মে জামালপুর সদর থানায় এফআইআর নম্বর ৪৪ এবং জিআর নম্বর ৩৩৭-এর একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দণ্ডবিধির ৪১৯ ও ৩৮৫ ধারা উল্লেখ রয়েছে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, মামলাটিতে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বগুড়ার গাবতলী থানায় সিআর মামলা নম্বর ৫৯০সি/২৫-এর তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলায় যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া নাটোরের সিংড়া থানায় ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলার তথ্যও পিসিপিআরে রয়েছে।

তবে এসব মামলার মধ্যে বর্তমানে কয়টি সক্রিয় বা বিচারাধীন রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের নথি যাচাই ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট কতটি মামলা চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে যা বললেন এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের স্টাফ পরিচয়ে প্রতারণা, সিংড়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু হুরায়েরা খালিদ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৭:১৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আবু হুরায়রা ওরফে খালিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নাটোরের সিংড়া পৌর এলাকার বালুয়াবাসুয়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার খালিদ হাসান রংপুর বেতারের বরখাস্তকৃত টেকনিশিয়ান এবং সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের নাম ও তাঁর কার্যালয়ের স্টাফ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পদ পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডিজিটাল মাধ্যম ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তিনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের অপরাধ রেকর্ড বা পিসিপিআর (PCPR) পর্যালোচনায় খালিদ হাসানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক পূর্বের মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের মধ্যে নাটোরের সিংড়া, ঢাকার পল্টন ও সাভার, জামালপুর সদর এবং বগুড়ার গাবতলী থানাসংশ্লিষ্ট মামলার উল্লেখ রয়েছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন থানায় এফআইআর নম্বর ৪৫-এর একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪০৬, ৫০০ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ রয়েছে। একই বছরের ১৬ জানুয়ারি সাভার থানায় এফআইআর নম্বর ৩৭-এর একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২০ মে জামালপুর সদর থানায় এফআইআর নম্বর ৪৪ এবং জিআর নম্বর ৩৩৭-এর একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দণ্ডবিধির ৪১৯ ও ৩৮৫ ধারা উল্লেখ রয়েছে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, মামলাটিতে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বগুড়ার গাবতলী থানায় সিআর মামলা নম্বর ৫৯০সি/২৫-এর তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলায় যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া নাটোরের সিংড়া থানায় ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলার তথ্যও পিসিপিআরে রয়েছে।

তবে এসব মামলার মধ্যে বর্তমানে কয়টি সক্রিয় বা বিচারাধীন রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের নথি যাচাই ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট কতটি মামলা চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।