ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুরে চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের চোরাই রাবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে দাঁতমারা ইউনিয়নের ছোট বেতুয়া এলাকা থেকে রাবারবোঝাই একটি কভার ভ্যান আটক করা হয়। এ সময় গাড়ির চালক ও সহকারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন: দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ মুন্সিপাড়া এলাকার আজমখানের ছেলে আমির হোসেন (২৩), একই এলাকার রফিকুলের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২১) এবং ভোলার চরফ্যাশন এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ সেলিম (৩১)। সেলিম কভার ভ্যানটির চালক বলে জানা গেছে। অন্য দুজন রাবার চোর সিন্ডিকেটের সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাঁতমারা পুলিশ নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রো-ন ২৩২৩-৩৮ নম্বর প্লেটযুক্ত কভার ভ্যানটি আটক করা হয়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ টন রাবার পাওয়া যায়। উদ্ধার করা রাবারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধার করা রাবার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের চুড়ামণি এলাকার দ্বীল মোহাম্মদের ছেলে জাহেদের। তিনি পুলিশে কর্মরত বলে দাবি করা হয়েছে। জাহেদের অনুপস্থিতিতে একই ইউনিয়নের হাসনাবাদ জমাদারপাড়ার রফিকের ছেলে যুবলীগ নেতা জাহেদ চোরাই রাবার বেচাকেনা ও পাচারের দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশে কর্মরত হিসেবে পরিচিত জাহেদ ২০২৪ সালে রামগড় এলাকায় মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের পর অদৃশ্য কোন শক্তির সহযোগিতায় জাহেদ পুনরায় চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পায়। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) কর্মরত বলে জানা গেছে। পুলিশ জাহেদের বাড়িতে চোরাই রাবার স্টকের গুদাম রয়েছে।
উল্লেখ্য, এশিয়ার বৃহত্তম রাবার বাগান হিসেবে পরিচিত দাঁতমারা রাবার বাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাবার চুরির অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাগান থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাবার চুরি হয়ে অবৈধভাবে বিক্রি ও পাচার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রাবার বাগানের শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের সহায়তা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাগানের রাবার চুরির সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তবে প্রতিবছর শতকোটি টাকার রাবার চুরি, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক মদদ সহ সকল অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে যাচাইয়ের দাবি বহু পুরোনো। বরাবরই রাজনৈতিক পালাবদলে চোরের সিন্ডিকেট পরিবর্তন হয়, চুরি বন্ধ হয় না।
দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বরকত উল্লাহ রাবার ও কভার ভ্যান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা রাবার, গাড়ি এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
উদ্ধার হওয়া ৬ থেকে ৭ টন রাবার কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এর প্রকৃত মালিক কারা এবং শহরে পাচারের পেছনে আর কারা জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দাঁতমারা রাবার বাগানে দীর্ঘদিনের চুরির অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন মনে করছে সচেতন মহল।
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম) আবদুল্লাহ আল বোরহান 



















