ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঠবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালে টেকনিক্যাল স্টাফ সংকটে ব্যাহত পরীক্ষা-নিরীক্ষা

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল স্টাফ না থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে অতিরিক্ত খরচে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য কারিগরি কাজের জন্য অনুমোদিত ৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ৭টি পদ শূন্য থাকায় একজন টেকনোলজিস্টের পক্ষে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক রোগীর রক্ত, মল-মূত্রসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল স্টাফ না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সময়মতো সম্পন্ন করতে গিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে কিছু রোগীকে হাসপাতালের বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) ডা. সৌমিত্র সিনহা রায় জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গড়ে একজন চিকিৎসককে প্রায় ১০০ জন রোগী দেখতে হয়। এসব রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র একজন টেকনিশিয়ান রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, একমাত্র টেকনিক্যাল স্টাফ ছুটিতে থাকলে যক্ষ্মা পরীক্ষার জন্য ব্র্যাক থেকে নিয়োজিত ল্যাব সহকারীকে দিয়ে হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে, হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকটের বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “হাসপাতালে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হলে আমাদের কিছু করার নেই।”

জনবল সংকট দ্রুত নিরসন করে হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবরেটরি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্থানীয়রা। এতে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে জি কে গউছের সাথে ইমাম, মুয়াজ্জিনদের মতবিনিময়

মঠবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালে টেকনিক্যাল স্টাফ সংকটে ব্যাহত পরীক্ষা-নিরীক্ষা

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল স্টাফ না থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে অতিরিক্ত খরচে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য কারিগরি কাজের জন্য অনুমোদিত ৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ৭টি পদ শূন্য থাকায় একজন টেকনোলজিস্টের পক্ষে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক রোগীর রক্ত, মল-মূত্রসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল স্টাফ না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সময়মতো সম্পন্ন করতে গিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে কিছু রোগীকে হাসপাতালের বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) ডা. সৌমিত্র সিনহা রায় জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গড়ে একজন চিকিৎসককে প্রায় ১০০ জন রোগী দেখতে হয়। এসব রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র একজন টেকনিশিয়ান রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, একমাত্র টেকনিক্যাল স্টাফ ছুটিতে থাকলে যক্ষ্মা পরীক্ষার জন্য ব্র্যাক থেকে নিয়োজিত ল্যাব সহকারীকে দিয়ে হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে, হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকটের বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “হাসপাতালে জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হলে আমাদের কিছু করার নেই।”

জনবল সংকট দ্রুত নিরসন করে হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবরেটরি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্থানীয়রা। এতে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন তারা।