ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে কদবেল বাগান করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে সাইদুর রহমান

বাণিজ্যিকভাবে কদবেল বাগান করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে সাইদুর রহমান সোনা নামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী এক কৃষি উদ্যোক্তা। কুষ্টিয়া জেলায় আম বাগান, লিচু বাগান, কাঁঠাল বাগান, কলা বাগান, কমলা বগান, মাল্টা বাগান, আনারকলি ও ড্রাগনফলের বাণিজ্যিক চাষ হলেও কদবেল চাষ বিরল এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

মৃত মশিউর রহমান মাষ্টারের ছেলে তরুন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা (৪৭) কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামে সর্বপ্রথম ১একর মানে ৩ বিঘা জমিতে সাড়ে ৪বছর আগে গড়ে তুলেছেন কদবেল বাগান। মেহেরপুর বারাদি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ২৫ টাকা দরে বনলতা জাতের ১০০টি কদবেল গাছের চারা রোপণ করেন উল্লিখিত পরিমাণ জমিতে। এ বছর দ্বিতীয়বার ফল ধরেছে গাছে গাছে। উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, গত বছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি গাছে প্রচুর কদবেল ধরেছে। আর কিছু দিনের মধ্যে এসব বেল বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এই বাগান গড়ে তুলতে মোট খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। গত বছর প্রায় ১২শ কদবেল বিক্রি করেছি বড় সাইজ ৬০ টাকা, মাঝারি সাইজ ৫০ টাকা ও ছোট সাইজ ৪০ টাকা দরে। গত বছর বাগান থেকে আমার মোট আয় হয়েছিলো প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বাগানের বয়স যত বাড়বে, গাছ তত বড় হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ক্রমাগত।

তরুন কৃষি উদ্যোক্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, চাকরির সীমিত সুযোগের বাস্তবতায় সাইদুর রহমান সোনার এর কদবেল চাষের উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিকল্পনা, অধ্যবসায় ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে অপ্রচলিত ফলের চাষও হতে পারে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতার কার্যকর বিকল্প।

দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, কদবেল বাগান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তেমন কোনো ঝক্কি ঝামেলা নেই। তেমন কীটনাশক বা সার ব্যবহারও করতে হয় না। কেবল সামান্য পরিচর্যার কৌশল জানতে হয়। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ সব রকমের সহযোগিতা প্রদান করে বলে তিনি জানান।

দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, দৌলতপুর উপজেলায় এটিই প্রথম বাণিজ্যিক কদবেলের বাগান। এলাকার মাটি ও জলবায়ু এ চাষের জন্য উপযোগী। যথাযথ পরিচর্যা করলে কদবেল লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে। কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।#

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় দের যুগ ধরে বন্ধ শিল্পকলা একাডেমী বাদ্যযন্ত্র ও বরাদ্দের নেই হদিস

দৌলতপুরে সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে কদবেল বাগান করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে সাইদুর রহমান

আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্যিকভাবে কদবেল বাগান করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে সাইদুর রহমান সোনা নামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী এক কৃষি উদ্যোক্তা। কুষ্টিয়া জেলায় আম বাগান, লিচু বাগান, কাঁঠাল বাগান, কলা বাগান, কমলা বগান, মাল্টা বাগান, আনারকলি ও ড্রাগনফলের বাণিজ্যিক চাষ হলেও কদবেল চাষ বিরল এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

মৃত মশিউর রহমান মাষ্টারের ছেলে তরুন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা (৪৭) কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামে সর্বপ্রথম ১একর মানে ৩ বিঘা জমিতে সাড়ে ৪বছর আগে গড়ে তুলেছেন কদবেল বাগান। মেহেরপুর বারাদি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ২৫ টাকা দরে বনলতা জাতের ১০০টি কদবেল গাছের চারা রোপণ করেন উল্লিখিত পরিমাণ জমিতে। এ বছর দ্বিতীয়বার ফল ধরেছে গাছে গাছে। উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, গত বছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি গাছে প্রচুর কদবেল ধরেছে। আর কিছু দিনের মধ্যে এসব বেল বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এই বাগান গড়ে তুলতে মোট খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। গত বছর প্রায় ১২শ কদবেল বিক্রি করেছি বড় সাইজ ৬০ টাকা, মাঝারি সাইজ ৫০ টাকা ও ছোট সাইজ ৪০ টাকা দরে। গত বছর বাগান থেকে আমার মোট আয় হয়েছিলো প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বাগানের বয়স যত বাড়বে, গাছ তত বড় হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ক্রমাগত।

তরুন কৃষি উদ্যোক্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, চাকরির সীমিত সুযোগের বাস্তবতায় সাইদুর রহমান সোনার এর কদবেল চাষের উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিকল্পনা, অধ্যবসায় ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে অপ্রচলিত ফলের চাষও হতে পারে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতার কার্যকর বিকল্প।

দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, কদবেল বাগান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তেমন কোনো ঝক্কি ঝামেলা নেই। তেমন কীটনাশক বা সার ব্যবহারও করতে হয় না। কেবল সামান্য পরিচর্যার কৌশল জানতে হয়। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ সব রকমের সহযোগিতা প্রদান করে বলে তিনি জানান।

দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, দৌলতপুর উপজেলায় এটিই প্রথম বাণিজ্যিক কদবেলের বাগান। এলাকার মাটি ও জলবায়ু এ চাষের জন্য উপযোগী। যথাযথ পরিচর্যা করলে কদবেল লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে। কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।#