দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নিয়মিতই খেলেন ক্রিকেটাররা, বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপেও যান তারা। কিন্তু এবার বাংলাদেশ দল যাচ্ছে এশিয়ান গেমস খেলতে। এ ধরনের গেমসে ক্রিকেট ইভেন্টে দ্বিতীয় সারির দল পাঠালেও এবার বাংলাদেশ পাঠাচ্ছে পূর্ণশক্তির জাতীয় দল। যার নেতৃত্বে থাকা লিটন কুমার দাসের জন্যও গেমসে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই প্রথম। সেই রোমাঞ্চ নিয়ে গত ক’দিন ধরেই শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে যাচ্ছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। গতকাল ছিল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন আর ফটোসেশন। তার আগেও হোম অব ক্রিকেটে ম্যাচ আদলে অনুশীলন করেছে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুস্তাফিজুর রহমানরা। সকলের মাঝেই বাড়তি এক উন্মাদনা, রোমাঞ্চের ছোঁয়া। সেই রোমাঞ্চ নিয়েই এদিন সাংবাদিকদে মুখোমুখি হলেন লিটন। সেটি টের পাওয়া গেল টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের কণ্ঠেও, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বড় জিনিস, সঙ্গে এ রকম জায়গায় খেলা এটাও একটা বড় জিনিস। সব সময় অন্য টুর্নামেন্টে জিতলে আপনি ট্রফি পাবেন, কিন্তু এখানে স্বর্ণ পদক জেতার বিষয় থাকে। এটা একটা বড় স্বপ্ন, আমার মনে হয় সব ক্রিকেটার রোমাঞ্চিত।’
রোমাঞ্চের সঙ্গে লিটনদের ওপর প্রত্যাশার চাপও আছে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ বরাবরই পদকের জন্য তাকিয়ে থাকে ক্রিকেটে। এবার মেয়েদের ক্রিকেট ইভেন্টে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জও জিততে পারেনি। উশু ছাড়া অন্য কোনো ইভেন্টেও এখনো পদকের খবর নেই। ছেলেদের ক্রিকেটেই তাই পদক জেতার প্রত্যাশাটা বেশি। লিটন এ নিয়ে বলেছেন, ‘একটা জিনিস বলতে পারি যে আমাদের খেলোয়াড়দের অনেক আগ্রহ আছে এটা নিয়ে। কারণ, এই টুর্নামেন্টটা প্রতিবার আসে না। আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলে যেকোনো টুর্নামেন্ট এক বছর পরপরই পেয়ে যাবেন। কিন্তু এ খেলাটা খুব বিরল হয়। প্রতিটা খেলোয়াড় অনেক রোমাঞ্চিত আর বড় স্বপ্ন যেটা সেটাই পূরণ করার চেষ্টা করব।’ আপাতত লিটনের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনাল খেলাতেই মনোযোগ, ‘আমরা কীভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি এদিকেই তাকিয়ে আছি। কারণ, ফাইনাল খেললে আপনার একটা সুযোগ থাকবে সোনা জেতার। ক্রিকেটে যে জিনিসটা বলি অলওয়েজ ম্যাচ বাই ম্যাচ। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচই যাব।’
গেমসে বাংলাদেশের সাফল্য নেই খুব একটা। অলিম্পিকে পদক তো দূর, সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করে খেলতে পারা ইভেন্টের সংখ্যাও হাতে গোনা। এবার অবশ্য ক্রিকেটের সামনে ওই হাতছানি আছে। ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে থাকবে ক্রিকেট। তবে সেখানে অংশ নিতে পারার সমীকরণটা বেশ জটিল। ৬ দলের মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ থেকে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল সরাসরি খেলবে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে পনেরোর ভেতর থাকলে সরাসরি খেলবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও। বাকি একটি দল আসবে বাছাইপর্ব থেকে। নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জায়গা করে নিতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের সুযোগ করে নেওয়া হবে তাই ভীষণ চ্যালেঞ্জের।
তবে এশিয়ান গেমস দিয়ে সেই পথে একটা মহড়া দিতে চান লিটনরা। অলিম্পিকে জায়গা পেলে ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক। সেটি করে বাকি ইভেন্টের অ্যাথলেটদেরও উদ্বুদ্ধ করতে চান লিটন। অধিনায়কের ভাষায়, ‘দেশের জন্য কোনো কিছু করতে পারা তো অনেক বড় বিষয়। আর সেটা যদি খেলার মাধ্যমে হয় কেন নয়? আমরা ক্রিকেটে আলাদা। কিন্তু আমাদের মাধ্যমে যদি কোনো গেমের উন্নতি হয় বা অন্য কোনো স্পোর্টসের যদি সুযোগ আসে আমরা এটা চেষ্টা করব।’ সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ঘাটতি থাকলেও ক্যাম্প ও প্র্যাকটিস ম্যাচ নিয়ে লিটন বলেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। দুটো প্র্যাকটিস গেম খেলার সুযোগ পেয়েছি। অনেকদিন পর আপনারা জানেন যে আমরা লাস্ট টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছি অলমোস্ট জিম্বাবুয়েতে। তো ওখান থেকে এক সঙ্গে বন্ডিং হওয়ার একটা সুযোগ এই প্রস্তুতি ম্যাচ। আমার কাছে মনে হয় প্রস্তুতি হিসেবে খুবই ভালো।’
র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় এশিয়ান গেমসে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ওই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। এশিয়াডে খেলতে আজ রাতে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। তার আগে জাপানগামী দলে গতকাল বিকেলে একটি অবধারিত বদল এনেছে বিসিবি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জায়গায় আইচি-নাগোয়ার এশিয়ান গেমসে যাচ্ছেন স্পিনার আলিস আল ইসলাম। ২০১৯ সালে বিপিএলের অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে চমকে দেওয়া আলিসের জাতীয় দলের হয়ে এখনো অভিষেক হয়নি। তবে জাপানের উইকেট দেখেই পেস অলরাউন্ডারের বদলি বাড়তি একজন স্পিনার নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই রহস্য স্পিনারকে দলে ভিড়িয়েছে টিম ম্যানেজম্যান্ট।
স্পোর্টস রিপোর্টার 

























