ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি-বেকারি পণ্য তৈরি, লাখ টাকা জরিমানা

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি ও বেকারি পণ্য তৈরি এবং সংরক্ষণের দায়ে পিওর সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মিষ্টি তৈরির সিরায় ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া, নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে না পারাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এ জরিমানা করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই এলাকার বটতলীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত ভট্টাচার্য।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাটিতে খোলা ও নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। চিনির গুঁড়া রাখা হয়েছিল অপরিষ্কার ও স্যাঁতসেঁতে বক্সে। এ ছাড়া কুকিজ তৈরির খামির খোলা, ঢাকনাবিহীন ও লেবেল ছাড়াই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

কারখানাটিতে মিষ্টির ছানা নোংরা দেয়ালের পাশে পানি ঝরানোর জন্য রাখা হয়েছিল। কেক তৈরির কাঁচামাল এবং কেকের ছাঁটাই করা অংশও লেবেল ছাড়া সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত সিরার মধ্যে ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া যায়। পাশাপাশি কারখানাটিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ক্রয়চালান এবং উৎপাদিত সব পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, অভিযানে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিযানে পাওয়া অনিয়ম বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং তা আদায় করেন।

অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

শৈলকুপায় অনুমোদনহীন রাফি বেকারীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, বেকারী বন্ধের নির্দেশ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি-বেকারি পণ্য তৈরি, লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৬:৩০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি ও বেকারি পণ্য তৈরি এবং সংরক্ষণের দায়ে পিওর সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মিষ্টি তৈরির সিরায় ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া, নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ এবং উৎপাদিত পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে না পারাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এ জরিমানা করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই এলাকার বটতলীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত ভট্টাচার্য।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাটিতে খোলা ও নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। চিনির গুঁড়া রাখা হয়েছিল অপরিষ্কার ও স্যাঁতসেঁতে বক্সে। এ ছাড়া কুকিজ তৈরির খামির খোলা, ঢাকনাবিহীন ও লেবেল ছাড়াই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

কারখানাটিতে মিষ্টির ছানা নোংরা দেয়ালের পাশে পানি ঝরানোর জন্য রাখা হয়েছিল। কেক তৈরির কাঁচামাল এবং কেকের ছাঁটাই করা অংশও লেবেল ছাড়া সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত সিরার মধ্যে ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া যায়। পাশাপাশি কারখানাটিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ক্রয়চালান এবং উৎপাদিত সব পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, অভিযানে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিযানে পাওয়া অনিয়ম বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং তা আদায় করেন।

অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।