ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় আপত্তি উপেক্ষা করে বসতভিটায় বিদ্যুতের খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কায় পরিবার

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে খুঁটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. টুটন মিয়া। এ দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে তাঁর বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে টুটন মিয়াসহ গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কলমাকান্দা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের (ডিজিএম) কাছে লিখিত আবেদন করেন টুটন। তবে সেই আবেদন আমলে না নিয়েই তাঁর বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। টুটন মিয়ার বাড়ি শুনই গ্রামে। একই গ্রামের আলাল উদ্দিন সেচের লাইন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন। টুটনের দাবি, তাঁর বাড়ি এড়িয়ে সরাসরি বিলের দিকে লাইন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। খুঁটি বসানোর সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না; কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। টুটন মিয়া বলেন, বিষয়টি জানিয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এতে আমার পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত খুঁটিটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হোক।

এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোদানেওয়াজ নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০২ সালে তাঁর বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি নেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে হঠাৎ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তাঁর ওপর পড়লে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এতে তাঁর এক হাতের সব আঙুল হারান এবং শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে যায়। প্রাণে বাঁচলেও এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। খোদানেওয়াজ বলেন, ‘আমার মতো আর কারও জীবন যেন দুর্বিষহ না হয়। তাই দ্রুত খুঁটিটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’ গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, সরাসরি লাইন নেওয়া হলে টুটনের বাড়ি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খুঁটিটি সরানো প্রয়োজন। এদিকে, শুনই গ্রামে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের যোগসাজশে বেশ কয়েকটি অবৈধ সেচ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এসব সংযোগে বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার তার বাঁশের খুঁটির ওপর দিয়ে বিলের মাঝখানে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সেচপাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। এ ছাড়া সেচের কাজে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সেচলাইনের মালিক আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি যথাযথ নিয়মে সেচলাইনের জন্য আবেদন করেছি। বিদ্যুৎ অফিস তাদের নিয়ম অনুযায়ী লাইন নির্মাণ করেছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।অভিযোগের বিষয়ে কলমাকান্দা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহ আলম বলেন, ‘এই লাইনের আবেদন অনেক আগের। আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগ দিয়েছি। নির্মাণের সময় জানালে বা বাধা দিলে অন্যদিকে ঘুরিয়ে লাইন নেওয়া যেত। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই আমরা কাজ করি। এখন লাইন নির্মাণ হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে ওই সংযোগের খুঁটির তার চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জানানো হয়েছে। তারপরও বিষয়টি দেখে কতটুকু কী করা যায়, তা বিবেচনা করব। অবৈধভাবে বাড়ি থেকে তার টেনে সেচ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ওই বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কিছু ঝামেলা রয়েছে। তার চুরির বিষয়েও অভিযোগ আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শৈলকুপায় অনুমোদনহীন রাফি বেকারীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, বেকারী বন্ধের নির্দেশ

নেত্রকোনায় আপত্তি উপেক্ষা করে বসতভিটায় বিদ্যুতের খুঁটি, দুর্ঘটনার শঙ্কায় পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বসতভিটার উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে খুঁটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. টুটন মিয়া। এ দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে তাঁর বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে টুটন মিয়াসহ গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কলমাকান্দা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের (ডিজিএম) কাছে লিখিত আবেদন করেন টুটন। তবে সেই আবেদন আমলে না নিয়েই তাঁর বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে সেচের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। টুটন মিয়ার বাড়ি শুনই গ্রামে। একই গ্রামের আলাল উদ্দিন সেচের লাইন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন। টুটনের দাবি, তাঁর বাড়ি এড়িয়ে সরাসরি বিলের দিকে লাইন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। খুঁটি বসানোর সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না; কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। টুটন মিয়া বলেন, বিষয়টি জানিয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এতে আমার পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত খুঁটিটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হোক।

এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোদানেওয়াজ নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০২ সালে তাঁর বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি নেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে হঠাৎ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তাঁর ওপর পড়লে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এতে তাঁর এক হাতের সব আঙুল হারান এবং শরীরের অধিকাংশ জায়গা পুড়ে যায়। প্রাণে বাঁচলেও এখনো পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। খোদানেওয়াজ বলেন, ‘আমার মতো আর কারও জীবন যেন দুর্বিষহ না হয়। তাই দ্রুত খুঁটিটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’ গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, সরাসরি লাইন নেওয়া হলে টুটনের বাড়ি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু লাইন বাঁকিয়ে উঠানে খুঁটি স্থাপন করায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত খুঁটিটি সরানো প্রয়োজন। এদিকে, শুনই গ্রামে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের যোগসাজশে বেশ কয়েকটি অবৈধ সেচ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এসব সংযোগে বসতবাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার তার বাঁশের খুঁটির ওপর দিয়ে বিলের মাঝখানে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সেচপাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। এ ছাড়া সেচের কাজে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সেচলাইনের মালিক আলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি যথাযথ নিয়মে সেচলাইনের জন্য আবেদন করেছি। বিদ্যুৎ অফিস তাদের নিয়ম অনুযায়ী লাইন নির্মাণ করেছে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।অভিযোগের বিষয়ে কলমাকান্দা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহ আলম বলেন, ‘এই লাইনের আবেদন অনেক আগের। আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগ দিয়েছি। নির্মাণের সময় জানালে বা বাধা দিলে অন্যদিকে ঘুরিয়ে লাইন নেওয়া যেত। মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই আমরা কাজ করি। এখন লাইন নির্মাণ হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে ওই সংযোগের খুঁটির তার চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জানানো হয়েছে। তারপরও বিষয়টি দেখে কতটুকু কী করা যায়, তা বিবেচনা করব। অবৈধভাবে বাড়ি থেকে তার টেনে সেচ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ওই বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কিছু ঝামেলা রয়েছে। তার চুরির বিষয়েও অভিযোগ আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।