দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপদ পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ, দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর
ঝিকরগাছা, যশোর: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার দক্ষিণ দিগদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন মো. সাদ্দাম হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস সম্পন্ন করা এই শিক্ষকের যোগদানকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। তবে নতুন শিক্ষক যোগদানের আনন্দের মধ্যেও বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাস্টার মো. বিপ্লব হোসেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাস্টার মো. মনিরুল ইসলাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. আবুল কাশেম এবং সহকারী শিক্ষক মাস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান ও মোছা. হাসিনা খাতুন। এ ছাড়া অভিভাবক সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. আবুল কাশেম, মো. আবুল বাশার, মোছা. সুমি খাতুন, মোছা. লিপি খাতুন ও মোছা. তানিয়া খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নবযোগদানকারী শিক্ষককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ভবনের দাবি
বিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের ব্যবহারে বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন নিরাপদ অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। তাই শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
আগের ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের আমলে যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম বিদ্যালয়টির জন্য একটি নতুন ভবন অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং কয়েকজন নেতার বাড়ির সামনে ভবন নির্মিত হলে তা আড়াল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে ওই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভবনটি অন্য স্থানে নির্মাণের দিকে চলে যায় বলেও তাঁদের ভাষ্য।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকলে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে তা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত
বিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ দিগদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ৫০ জনেরও বেশি সাবেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র এবং জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক কর্মক্ষেত্রে কাজ করা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমবিবিএস চিকিৎসকও রয়েছেন বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমিত অবকাঠামোগত সুযোগের মধ্যেও বিদ্যালয়টি অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রেখেছে। তাই শিক্ষার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও সুন্দর পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা
বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১৪-এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা নাজমুল মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. মোশলে উদ্দিন ফরিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
তাঁদের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্যদ্বয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও প্রকৌশল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যালয়টির ভবনের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন।
এ ছাড়া অতীতে ভবন নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তার নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণেরও আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নতুন শিক্ষক, নতুন সম্ভাবনা—প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন
দক্ষিণ দিগদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান। নতুন ইংরেজি শিক্ষকের যোগদান বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে জরাজীর্ণ ভবনের সমস্যা সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
তাঁদের দাবি, দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও শিক্ষার মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিদ্যালয়টির ভবন পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে দক্ষিণ দিগদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে—এমন প্রত্যাশা এখন বিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট সবার।
আবু রাসেল স্টাফ রিপোর্টার যশোর প্রতিনিধি 


















