সরকারি বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত কৃষকের দেখা মিলছে না। সারের বস্তা সাজিয়ে দিনভর অলস সময় পার করছেন ডিলার ও কর্মচারীরা। লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৫ নং হারাটি ইউনিয়নের ফড়িংয়ের দিঘি বাজারে সার সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও ক্রেতার অভাবে দোকানগুলোতে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে ফড়িংয়ের দিঘি বাজারের বিসিআইসি নিবন্ধিত সার বিক্রয় কেন্দ্র মেসার্স তাহের ট্রেডার্স’-এ গিয়ে দেখা যায় এই ব্যতিক্রমী চিত্র। সাধারণত কৃষি মৌসুমে সারের দোকানে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ও ডিলারদের ব্যস্ততা চোখে পড়লেও, বর্তমানে সেখানে ভিন্ন পরিস্থিতি। ডিলারদের গুদামে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও পটাশসহ সব ধরনের রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
মেসার্স তাহের ট্রেডার্সের ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, গত ৬ তারিখে ৩০০ বস্তা, ৭ তারিখে ২০০ বস্তা, ৮ তারিখে ১০০ বস্তা এবং ৯ তারিখে ১৪০ বস্তা সার আসে। সরবরাহকৃত ১৪০ বস্তার মধ্যে ৮৪টি বিক্রি হলেও অবশিষ্ট ৫৬টি গুদামে রয়ে গেছে। সকাল থেকে সারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও কৃষকের দেখা মিলছে না। তবে জমি প্রস্তুতের নতুন ধাপ শুরু হলে দ্রুতই কৃষকেরা সার সংগ্রহ করতে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমের বর্তমান ধাপে জমিতে সারের প্রাথমিক প্রয়োগ শেষ হওয়ায় বাজারে এই সাময়িক স্থবিরতা। পরবর্তী সেচ ও পরিচর্যার সময় এলে আবারও কেনাবেচা জমজমাট হয়ে উঠবে।
এদিকে কৃষকেরা যেন সঠিক সময়ে ও নির্ধারিত মূল্যে সার পেয়ে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি জানান, কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির প্রাণ। জমিতে চাষাবাদ যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য সরকার সারা দেশে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। ডিলাররা সঠিক মূল্যে সার বিক্রি করছেন কি না, তা প্রতিনিয়ত তদারকি করা হচ্ছে এবং সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান জানান, জেলা জুড়ে সারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফড়িংয়ের দিঘিসহ সব বাজারেই পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও কৃষি উৎপাদন সচল রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সুষম সারের ব্যবহার ও সরকারি মূল্য নিশ্চিত করতে তদারকি চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ নিশ্চিত করেন যে ইউনিয়ন পর্যায়ে সারের কোনো কৃত্রিম সংকট নেই। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে গুণগত মান বজায় রেখে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ মাঠে রয়েছে।
মোঃ হারুন অর রশীদ লালমনিরহাট 


















