ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংসদে আইনমন্ত্রী

আমার একটা মাত্র বউ, আইন মেনে তালাক দিতে ৯০ দিন সময় লাগবে

  • আপডেট সময় : ০২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 4

আমার একটা মাত্র বউ, আইন মেনে তালাক দিতে ৯০ দিন সময় লাগবে

সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করার পরও পিতা-মাতা যাতে আমৃত্যু সেই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখতে পারেন, সেই বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইন পাসের প্রাক্কালে বক্তব্যের এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে ইসলামি আইন ও প্রচলিত পারিবারিক অধ্যাদেশের তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমার একটা মাত্র বউ। আমি যদি আজ তাকে তালাক দিতে চাই, ইসলামিক ল অনুসারে আমি তিন তালাক বললে পরে তালাক হয়ে যাবে। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আমি তালাক দিতে গেলে আমাকে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলে নোটিশ দিতে হবে। আর্বিট্রেশন কাউন্সিল ৯০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষকে ডাকবেন, ডেকে নিয়ে রিকনসিলিয়েট (আপস) করার চেষ্টা করবেন। তা সত্ত্বেও যদি সমাধান না হয়, তবে ৯০ দিন পর সেই তালাক কার্যকর হবে।’ মূলত আইনি প্রক্রিয়া এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি বোঝাতেই মন্ত্রী এই উদাহরণের অবতারণা করেন।

তিনি জানান, আইনটি পাসের ফলে ১৮৮২ সালের ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এতদিন অনেক বৃদ্ধ পিতা-মাতা সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে পরবর্তীতে ঘরছাড়া বা বৃদ্ধাশ্রমের মতো করুণ পরিস্থিতির শিকার হতেন। নতুন এই সংশোধনীর ফলে এখন থেকে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর বা হেবা করলেও অভিভাবকরা আমৃত্যু সেই সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছেই সংরক্ষিত রাখতে পারবেন।

সংসদে পাস হওয়া এই বিলটিকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিলে কিছু সংশোধনী ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা কণ্ঠভোটের আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে ও কণ্ঠভোটে ঐতিহাসিক এই বিলটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রচণ্ড গরমে বাহুবলের মিরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ গ্রাহক, ব্যাহত জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য

সংসদে আইনমন্ত্রী

আমার একটা মাত্র বউ, আইন মেনে তালাক দিতে ৯০ দিন সময় লাগবে

আপডেট সময় : ০২:৫১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করার পরও পিতা-মাতা যাতে আমৃত্যু সেই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখতে পারেন, সেই বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইন পাসের প্রাক্কালে বক্তব্যের এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত উদাহরণ টেনে ইসলামি আইন ও প্রচলিত পারিবারিক অধ্যাদেশের তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমার একটা মাত্র বউ। আমি যদি আজ তাকে তালাক দিতে চাই, ইসলামিক ল অনুসারে আমি তিন তালাক বললে পরে তালাক হয়ে যাবে। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আমি তালাক দিতে গেলে আমাকে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলে নোটিশ দিতে হবে। আর্বিট্রেশন কাউন্সিল ৯০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষকে ডাকবেন, ডেকে নিয়ে রিকনসিলিয়েট (আপস) করার চেষ্টা করবেন। তা সত্ত্বেও যদি সমাধান না হয়, তবে ৯০ দিন পর সেই তালাক কার্যকর হবে।’ মূলত আইনি প্রক্রিয়া এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি বোঝাতেই মন্ত্রী এই উদাহরণের অবতারণা করেন।

তিনি জানান, আইনটি পাসের ফলে ১৮৮২ সালের ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এতদিন অনেক বৃদ্ধ পিতা-মাতা সন্তানদের নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে পরবর্তীতে ঘরছাড়া বা বৃদ্ধাশ্রমের মতো করুণ পরিস্থিতির শিকার হতেন। নতুন এই সংশোধনীর ফলে এখন থেকে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর বা হেবা করলেও অভিভাবকরা আমৃত্যু সেই সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছেই সংরক্ষিত রাখতে পারবেন।

সংসদে পাস হওয়া এই বিলটিকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষায় একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিলে কিছু সংশোধনী ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা কণ্ঠভোটের আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে ও কণ্ঠভোটে ঐতিহাসিক এই বিলটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়।