চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকায় ছাত্রদলের এক নেতার শয়নকক্ষ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা মূল্যের ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আবু শাকিল সাগর নামে ওই নেতা পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মাদক কারবারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মধ্যম গোসাইলডাঙ্গার কবি দোভাষ লেন এলাকায় আবু সৈয়দের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি দক্ষিণ বিভাগের একটি দল।
ডিবির ভাষ্য, বিদেশি মদ কেনাবেচার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ডিবির সদস্যরা ক্রেতার পরিচয়ে মদ কেনার কথা বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তারা আবু সৈয়দের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় আবু শাকিল সাগরের শয়নকক্ষের সামনে যান।
পুলিশের দাবি, ডিবির সদস্যদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সাগর সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে তার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা মদের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ সময় পুষ্পেন ব্যানার্জী (৫৮) ও শামসুল ইসলাম (৪৭) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুষ্পেন ব্যানার্জী নগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং শামসুল ইসলাম মিরসরাইয়ের কাটাছড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা বিদেশি মদ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে ডিবি।
অভিযানে সাগরকে না পাওয়ায় তাকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে তার শয়নকক্ষ থেকে মদগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিবি।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পুষ্পেন ও শামসুল এবং পলাতক আবু শাকিল সাগরের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
সংগঠন থেকেও বহিষ্কার
আবু শাকিল সাগর বন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। মাদক উদ্ধারের অভিযানের একদিন পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল।
মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্যসচিব শরীফুল ইসলাম তুহিনের অনুমোদনে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
তবে সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
তদন্তের অপেক্ষায় আরও কিছু প্রশ্ন
ডিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধারের দাবি করা হলেও এসব মদ কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কার কাছে সরবরাহের জন্য রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হবে। একই সঙ্গে পলাতক আবু শাকিল সাগরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে আবু শাকিল সাগরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পারভেজ বাঙালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 


















