শাহী পেঁপে: মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজিতে প্রায় ২১ লাখ টাকা আয়!
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এর সবুজ শাহী জাতের পেঁপে। কৃষক সাইদুর রহমান সোনার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে বারোমাসি এই মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপে আবাদে। প্রতিটি গাছ থেকে আনুমানিক এক মণের মতো পেঁপে পেয়ে থাকেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাষ্টারের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী তরুন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)।
দৌলতপুরের চুয়ামল্লিকপাড়ার মাঠ যেন এখন সবুজের সমারোহ। দূর থেকে তাকালে মনে হবে কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ক্যানভাস। কাছে গেলেই চোখে পড়ে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা পেঁপে। প্রতিটি গাছ যেন ভার সইতে পারছে না ফলের। ১০ বিঘা পেঁপে গাছের এই বাগানই এখন এলাকার মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আর এই সবুজ বিপ্লবের নায়ক তরুন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান (সোনা)। গতানুগতিক চাষাবাদ ছেড়ে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যে ভাগ্য বদলানো যায়, তা হাতে-কলমে প্রমাণ করেছেন তিনি। গতবছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এর সবুজ শাহী জাতের ১০ মন পাকা পেঁপের বীজ ৮০ টাকা কেজি দরে ৩২ হাজার টাকা খরচ করে কিনে এনে তিনি এই বছরের চলতি মাস পর্যন্ত আয় করেছেন ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
আশপাশের কৃষকরা যখন জমিতে চিরাচরিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, সাইদুর রহমান তখন হাঁটলেন ভিন্ন পথে। দৌলতপুর কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি ঝুঁকি নিলেন শাহী পেঁপে চাষের।
সাইদুর রহমান বলেন, “সবাই যখন সবজি চাষ করছিল, আমি তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি স্যারদের কথায় পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা আর শ্রমিক খরচ মিলিয়ে পকেট থেকে গিয়েছিল ৩২ হাজার টাকা। তখনো ভাবিনি, এই পেঁপে গাছ আমাকে এত কিছু দেবে।
দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “দৌলতপুরের মাটি এমনিতে খুব উর্বর। তার ওপর কৃষকরা যদি সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারেন, তবে সোনায় সোহাগা। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা যেকোনো প্রয়োজনে তার পাশে আছি।”
দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে বারবার ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জ শাহী জাতের বীজের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে এখন এই জাতের পেঁপে চাষ কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই শাহী জাতটি উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। এই জাতের প্রতিটি গাছের পেঁপের মোট ওজন ৩০ থেকে ৪০ কেজি ছাড়িয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একবার গাছ লাগালে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায়।
তরুন কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, সাইদুর রহমানের এই সাফল্য কেবল তাঁর একার নয়, এটি আধুনিক কৃষির এক উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন। তাঁর দেখানো পথে হেঁটে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক যে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তা বলাই বাহুল্য।
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, ব্যুরো চীফ, দক্ষিণাঞ্চল 


















