ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার জন্ম, পিতৃপরিচয় ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে দলিলপত্র দেখুন: মোহাম্মদ আলী আকবর

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী আকবর তাঁর জন্মপরিচয়, পিতৃপরিচয়, বাবা-মায়ের বিয়ে এবং পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব বিষয়ে তাঁর পরিবারের কাছে বিভিন্ন দলিল, সনদ ও নথিপত্র রয়েছে। তাই কোনো ধরনের অপমানজনক বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মোহাম্মদ আলী আকবরের অভিযোগ, তাঁর পরিবারকে নিয়ে মানববন্ধনে তাঁদের অবৈধ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পিতা মরহুম বাদশা মিয়া নন, তাঁর মা রুবি আক্তারের সঙ্গে বাদশা মিয়ার বিয়ে হয়নি এবং তাঁদের কোনো কাবিননামা, জন্মনিবন্ধন বা ওয়ারিশ সনদ নেই—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আলী আকবর বলেন, তাঁর পরিবারের জন্মপরিচয় ও পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচিত প্রমাণ যাচাই করা। তিনি এসব অভিযোগের জবাব দলিলপত্র ও প্রাসঙ্গিক নথির মাধ্যমে দিতে চান।
বাবা-মায়ের বিয়ে নিয়ে বক্তব্য
আলী আকবরের দাবি, তাঁর বাবা মরহুম বাদশা মিয়া ২৭ জুলাই ১৯৮৯ তারিখে তাঁর মা রুবি আক্তারকে ১০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র
আলী আকবর জানান, বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওয়ারিশ সনদ ও জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত নথি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নাম ও নথি প্রদানের তারিখ হলো—
১. সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর — ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭। ২. সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম কাঞ্চন — ৮ জানুয়ারি ২০১৮। ৩. সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম রফিকুল ইসলাম তালুকদার — ১১ আগস্ট ২০২২। ৪. বর্তমান চেয়ারম্যান হানিফ — ২৩ আগস্ট ২০২৬।
আলী আকবরের বক্তব্য, এসব নথির ভিত্তিতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলে তাঁদের পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
দানপত্রের জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
আলী আকবরের দাবি, তাঁর দাদা আলী আহমেদ তাঁর বাবা বাদশা মিয়াকে ৪ একর ২৬ শতক জমি দানপত্রের মাধ্যমে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, ওই সম্পত্তির অধিকার ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য আইনগত নথির ভিত্তিতে নিষ্পত্তি না করে তাঁদের জন্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন?
১৯৯৯ ও ২০০৫ সালের দলিল নিয়ে অভিযোগ
আলী আকবরের অভিযোগ, ২৫ আগস্ট ১৯৯৯ তারিখে কাদের মৌলভীর বোন মনোয়ারা বেগম তাঁর মা রুবি আক্তারের কাছ থেকে একটি দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি লিখে নেন।
এ ছাড়া তাঁর অভিযোগ, ২১ ডিসেম্বর ২০০৫ তারিখে কাদের মৌলভী, যিনি ‘সিটিং কাদের’ নামে পরিচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর নিখোঁজ ভাইকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর মাকে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে পুনরায় জমি লিখে নেন। আলী আকবরের দাবি, এরপরও তাঁর ভাইকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি এবং তাঁর মাকে মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য আইনগত নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রমাণের ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি
আলী আকবর বলেন, তাঁর পরিবারের পিতৃপরিচয়, জন্মপরিচয়, বিয়ে ও ওয়ারিশের বৈধতা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের উচিত অনুমাননির্ভর বা অপমানজনক বক্তব্যের পরিবর্তে প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা।
তিনি জানান, তাঁর কাছে থাকা দলিল, সনদ ও অন্যান্য নথি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। প্রয়োজনে আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি বিষয় যাচাই করারও আহ্বান জানান তিনি।
আলী আকবরের ভাষ্য, তিনি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিতে চান না; বরং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই এবং পারিবারিক পরিচয় ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান চান।
তিনি বলেন, “আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দলিল দেখুন, আর আমার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করুন। সত্য যা-ই হোক, তা প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হোক।”
দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্য মোহাম্মদ আলী আকবরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শৈলকুপায় অনুমোদনহীন রাফি বেকারীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, বেকারী বন্ধের নির্দেশ

আমার জন্ম, পিতৃপরিচয় ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে দলিলপত্র দেখুন: মোহাম্মদ আলী আকবর

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী আকবর তাঁর জন্মপরিচয়, পিতৃপরিচয়, বাবা-মায়ের বিয়ে এবং পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব বিষয়ে তাঁর পরিবারের কাছে বিভিন্ন দলিল, সনদ ও নথিপত্র রয়েছে। তাই কোনো ধরনের অপমানজনক বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মোহাম্মদ আলী আকবরের অভিযোগ, তাঁর পরিবারকে নিয়ে মানববন্ধনে তাঁদের অবৈধ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পিতা মরহুম বাদশা মিয়া নন, তাঁর মা রুবি আক্তারের সঙ্গে বাদশা মিয়ার বিয়ে হয়নি এবং তাঁদের কোনো কাবিননামা, জন্মনিবন্ধন বা ওয়ারিশ সনদ নেই—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আলী আকবর বলেন, তাঁর পরিবারের জন্মপরিচয় ও পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচিত প্রমাণ যাচাই করা। তিনি এসব অভিযোগের জবাব দলিলপত্র ও প্রাসঙ্গিক নথির মাধ্যমে দিতে চান।
বাবা-মায়ের বিয়ে নিয়ে বক্তব্য
আলী আকবরের দাবি, তাঁর বাবা মরহুম বাদশা মিয়া ২৭ জুলাই ১৯৮৯ তারিখে তাঁর মা রুবি আক্তারকে ১০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র
আলী আকবর জানান, বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওয়ারিশ সনদ ও জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত নথি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নাম ও নথি প্রদানের তারিখ হলো—
১. সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর — ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭। ২. সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম কাঞ্চন — ৮ জানুয়ারি ২০১৮। ৩. সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম রফিকুল ইসলাম তালুকদার — ১১ আগস্ট ২০২২। ৪. বর্তমান চেয়ারম্যান হানিফ — ২৩ আগস্ট ২০২৬।
আলী আকবরের বক্তব্য, এসব নথির ভিত্তিতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলে তাঁদের পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
দানপত্রের জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
আলী আকবরের দাবি, তাঁর দাদা আলী আহমেদ তাঁর বাবা বাদশা মিয়াকে ৪ একর ২৬ শতক জমি দানপত্রের মাধ্যমে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, ওই সম্পত্তির অধিকার ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য আইনগত নথির ভিত্তিতে নিষ্পত্তি না করে তাঁদের জন্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন?
১৯৯৯ ও ২০০৫ সালের দলিল নিয়ে অভিযোগ
আলী আকবরের অভিযোগ, ২৫ আগস্ট ১৯৯৯ তারিখে কাদের মৌলভীর বোন মনোয়ারা বেগম তাঁর মা রুবি আক্তারের কাছ থেকে একটি দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি লিখে নেন।
এ ছাড়া তাঁর অভিযোগ, ২১ ডিসেম্বর ২০০৫ তারিখে কাদের মৌলভী, যিনি ‘সিটিং কাদের’ নামে পরিচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর নিখোঁজ ভাইকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর মাকে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে পুনরায় জমি লিখে নেন। আলী আকবরের দাবি, এরপরও তাঁর ভাইকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি এবং তাঁর মাকে মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য আইনগত নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রমাণের ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি
আলী আকবর বলেন, তাঁর পরিবারের পিতৃপরিচয়, জন্মপরিচয়, বিয়ে ও ওয়ারিশের বৈধতা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের উচিত অনুমাননির্ভর বা অপমানজনক বক্তব্যের পরিবর্তে প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা।
তিনি জানান, তাঁর কাছে থাকা দলিল, সনদ ও অন্যান্য নথি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। প্রয়োজনে আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি বিষয় যাচাই করারও আহ্বান জানান তিনি।
আলী আকবরের ভাষ্য, তিনি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিতে চান না; বরং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই এবং পারিবারিক পরিচয় ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান চান।
তিনি বলেন, “আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দলিল দেখুন, আর আমার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করুন। সত্য যা-ই হোক, তা প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হোক।”
দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্য মোহাম্মদ আলী আকবরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।